পাকিস্তানকে বাগে পেয়েও হারানো হলো না বাংলাদেশের

নেহায়েতই প্রস্তুতি ম্যাচ। তবু একটা জয় নিজেদের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের মনোবল বাড়িয়ে দিতে পারত বহুগুণে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সে সুযোগ চলেও এসেছিল নিগার সুলতানার দলের সামনে। তবে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে সেটা আর সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের, বাগে পেয়েও পারেনি পাকিস্তানকে হারাতে।

নিউজিল্যান্ডের লিংকনে আজ বুধবার নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তানের। ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে ৭ রানে হেরে বিশ্বকাপের ‘প্রস্তুতি-পর্ব’ শেষ করেছে বাংলাদেশ। 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল বড় ব্যবধানে। বোলাররা দেদারসে রান বিলিয়েছিলেন। একমাত্র যা আসা দেখিয়েছিলেন শারমিন আক্তার। তবে আজ বুধবার পুরো দলই পারফর্ম করেছে বেশ। বোলাররা শুরুতে বেশ মিতব্যয়ী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে বেধে রেখেছিলেন ১৯৯ রানে। এরপর ব্যাটাররাও দারুণ ব্যাট করে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের দুয়ারে। 

টসে হেরে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশকে প্রথম সফলতা এনে দেন ফারিহা তৃষ্ণা। নাহিদা খানকে ১২ রানে ফেরান তিনি। আরেক ওপেনার সিদরা আমিন ও তিনে নামা মুনিবা আলিকেও বিদায় করেন তিনিই। ৩৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান।

তবে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার জাভেরিয়া খান ও বিসমাহ মারুফের ব্যাটে সে ধা'ক্কা সামলায় পাকিস্তান। বাংলাদেশকে খানিকটা দুশ্চিন্তায় ফেলে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ৭৩ রান।

তবে বাংলাদেশকে এরপরের সফলতা এনে দেন নাহিদা আক্তার, ফেরান জাভেরিয়াকে। সঙ্গীর বিদায়ের পরের ওভারে বিদায় নেন বিসমাহও, রিতু মনির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৩২ রানে। এক ওভার পর ওমাইমা সোহেলকেও ফেরান রিতু,  ১২০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান বি'প'দে পড়ে আবার।

তবে এরপর আলিয়া রিয়াজ ও ফাতিমা সানার ৬৬ রানের জুটি দলটিকে পথ দেখায়। তাতেই দুইশ’ ছোঁয়া সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রানের।

আগের দিন ৮১ রান করা শারমিনকে এদিন ওপেনিংয়ে তুলে আনা হয়েছিল। তবে সে কৌশল কাজে লাগেনি বাংলাদেশের। এদিন কেবল ১০ রানই করতে পারেন তিনি, ভালো শুরুর পর পঞ্চম ওভারে ২৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এর এক ওভার পর শামিমাও ফেরেন সাজঘরে। তখনই শুরু ফারজানার লড়াইয়ের। শুরুতে অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে ৭১ রানে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

এরপর রুমানার সঙ্গে মিলে জুটি গড়েন ফারজানা। ৬৮ বলে ৪৯ রানের এই জুটিতে রান তাড়ায় দারুণ এক মোমেন্টাম পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে ৩৬ বলে ৩০ রান করে এরপরই ফেরেন রুমানা আহমেদ।Z

সোবহানা মোসতারি আর সালমা খাতুন এরপর ফেরেন দ্রুতই। তবে লাল সবুজের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ফারজানা। দলীয় ১৭১ রানে তার বিদায়ে বাংলাদেশ আরও বড় ধা'ক্কা খায়। তার বিদায়ের সময় ৩৯ বলে ৩১ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের, হাতে ছিল দুই উইকেট। শেষমেশ সেটা তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। চার বল বাকি থাকতে অলআউট হয়ে হেরেছে ৭ রানে। তাতে প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মূল পর্বে যাওয়া হলো না বাংলাদেশের। আগামী শনিবার দ. আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে অভিষেক হবে বাংলাদেশের।

মেরাজুল কনক

আমি মেরাজুল ইসলাম, একজন বাংলাদেশী ব্লগার। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড অনেক কাজ করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন