মুনিমকে বিপিএলের সেরা আবিষ্কার মনে হচ্ছে সাকিবের

কায়েস আহমেদের বলে যেভাবে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছক্কাটা মারলেন, মুনিম শাহরিয়ারের সামর্থ্য হয়তো ফুটে ওঠে তাতেই। লেগ স্পিনার কায়েসের বলটা ফুললেংথে ছিল, মুনিম জায়গা বানিয়ে দারুণ টাইমিংয়ে সেটিকেই পাঠালেন বাউন্ডারির বাইরে। সে ওভারে কায়েসকে আরেকটি ছয় মারলেন, অবশ্য ফিরলেনও তাঁর বলেই।

তবে এর আগেই ২৫ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে মুনিম নিশ্চিত করেছেন, ক্রিস গেইলকে হারালেও পথ হারাচ্ছে না বরিশাল। যে দলটা টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে টপ অর্ডার নিয়ে বেশ ভুগছিল, মুনিম আসার পর যেন বদলে গেল তাদের চিত্রটাই! এবার সাকিব আল হাসানও বলছেন, এবারের আসরের সেরা আবিষ্কার বলতে হবে মুনিমকেই।

সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৪০-এর ওপর স্ট্রাইক রেটে ৩৫০-এর ওপর রান করেছিলেন মুনিম, তবে বিপিএলের ড্রাফটে তাঁকে কেউই নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়েছেন বরিশালের হয়ে খেলার। অবশ্য এরপরই সঙ্গী দুর্ভাগ্য, করোনাভাইরাসের কারণে খেলতে পারেননি টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে।

নিজের প্রথম ম্যাচে আউট হয়েছিলেন ১ রান করেই। এরপর বরিশালের কোচ খালেদ মাহমুদ বলেছিলেন, তাঁর বিশ্বাস, মুনিমের অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য আছে। কোচের আস্থার প্রতিদান মুনিম দেন পরের ম্যাচেই, কুমিল্লার বিপক্ষে ২৫ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে। পরের ম্যাচে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে মুনিম জ্বলে ওঠেন আবারও—এবার ২৮ বলে করেন ৫১ রান।

মুনিমের হিটিংয়ের সামর্থ্য দেখা গেছে এরই মধ্যে। আজকের ম্যাচেও দেখা গেল আরেকবার। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাকিব তাঁকে নিয়ে বলেছেন, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হতে পারেন তিনি। এমনিতেই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের টপ অর্ডারের অবস্থা সুবিধার নয়। সাকিবের ধারণা, ‘বাংলাদেশের হয়ে খেলার মতো সব গুণই আছে তার। বলের দারুণ স্ট্রাইকার সে, টাইমিং বেশ ভালো। ভবিষ্যতের জন্য তার যত্ন নিতে হবে আমাদের। নিঃসন্দেহে এবারের বিপিএলের সেরা আবিষ্কার সে।’

মুনিমের সামর্থ্যের ঝলক দেখতে পাওয়ার দিনে সাকিব আরেকবার যেন ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। এবার টানা ৫ ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন তিনি। সব মিলিয়ে বিপিএলে সবচেয়ে বেশিবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার রেকর্ডটা আগে থেকেই ছিল তাঁর—এবার সেটিকে নিয়ে গেলেন ১৪-তে। দুইয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহ ম্যাচসেরা হয়েছেন ৯ বার।

এক মৌসুমে ৫ বার ম্যাচসেরা হওয়া—সাকিব বিপিএলে এ রেকর্ডও গড়লেন নতুন করে। সাকিবের আশা, পরের দুই ম্যাচেও নিজের ফর্মটা ধরে রাখতে পারবেন তিনি, ‘বোলিংটা সব সময়ই ভালো ছিল, সর্বশেষ ৫ ম্যাচে ব্যাটিংটাও ভালো হচ্ছে আমার। আশা করি, পরের দুই ম্যাচেও হবে।’

অবশ্য দাপুটে জয়ের দিনে নিজ দলের অন্য বোলারদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন বরিশাল অধিনায়ক, ‘সব বোলারই নিজেদের কাজটা একেবারে ঠিকঠাক করেছে, আমরা উইকেট নিতে চাচ্ছিলাম। আমাদের বোলিং বিভাগটা বেশ আগ্রাসী। তারা ১৪৫ করতে পারত, তবে এর আগেই আটকে রাখার জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হয়।’

প্রথম কোয়ালিফায়ারে ১৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মুখোমুখি হবে বরিশাল।

মেরাজুল কনক

আমি মেরাজুল ইসলাম, একজন বাংলাদেশী ব্লগার। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড অনেক কাজ করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন