নাঈম-শামীমদের হলোটা কী

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চট্টগ্রাম পর্বের শেষ দিনে বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলছিলেন, ‘টুর্নামেন্টের মাঝ পর্যন্ত (জাতীয় দলের তরুণদের পারফরম্যান্স) সন্তোষজনক নয়। আশা করছি, তারা পরবর্তী রাউন্ডগুলোয় নিজেদের মেলে ধরতে পারবে।’

প্রধান নির্বাচকের আস্থার প্রতিদান এখনো পর্যন্ত দিতে পারেননি জাতীয় পুলে থাকা তরুণ ক্রিকেটাররা। তবে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র ক্রিকেটার বিশেষ করে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমরা দ্যুতি ছড়াচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে। ভালো খেলছেন মোস্তাফিজুর রহমান-লিটন দাসের মতো তারকা ক্রিকেটাররাও। কিন্তু গত এক বছর বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে যাঁদের নিয়ে ভবিষ্যতের ছক কষছে টিম ম্যানেজমেন্ট, তাঁদের বেশির ভাগ এখনো আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি।

এক বছরের বেশি সময় বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের ওপেনিং জুটিতে তামিমের অনুপস্থিতিতে ধারাবাহিক সুযোগ পাচ্ছেন মোহাম্মদ নাঈম। গত এক বছর সংক্ষিপ্ত সংস্করণে টানা ২৬ ম্যাচ খেলে তরুণ বাঁহাতি ওপেনার বিপিএলে মিনিস্টার ঢাকার হয়ে ৫ ম্যাচে ১৫ গড়ে করেছেন ৬৭ রান, স্ট্রাইকরেটও বড় মলিন ৬৭। নাজমুল হোসেন শান্ত, নুরুল হাসান সোহান, শামীম পাটোয়ারী, মেহেদী হাসানের পারফরম্যান্সও এখনো বলার মতো নয়।

চট্টগ্রামের হয়ে খেলা শামীমের মাঝে অনেকে সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের মিডল, লোয়ার মিডল অর্ডারে উজ্জ্বল সম্ভাবনা খুঁজে পেলেও এই বিপিএলটা তাঁর ভালো যাচ্ছে না, ৬ ম্যাচে করেছেন ৮১ রান। দ্রুত রান তোলার কাজ যাঁর, সেই শামীমের সেখানে স্ট্রাইকরেট ৯২.০৪। আর খুলনার হয়ে খেলা মেহেদী ৪ ম্যাচে করেছেন ৬১। বরিশালের শান্ত ৬ ম্যাচে ২২.৩৩ গড় ও ৯১.৭৮ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ১৩৪ রান। তাঁর বিপিএল সতীর্থ সোহান ৫ ম্যাচে করেছেন ৩২ রান।

ছন্দ হারিয়ে ফেলা জাতীয় দলের সতীর্থদের তুলনায় এ বিপিএলে কিছুটা ভালো করেছেন আফিফ হোসেন। চট্টগ্রামের জার্সিতে ৮ ম্যাচে ৫১.৫০ গড়ে করেছেন ১৮৫ রান, স্ট্রাইকরেট ১১৯ হলেও টুর্নামেন্টের রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন পাঁচে।

তরুণ খেলোয়াড়দের ছন্দ হারিয়ে ফেলার ব্যাখ্যায় বিশ্লেষক ও বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছেন, ‘আরও ভালো আশা করেছিলাম (তরুণদের কাছে)। অনেকে ভিন্ন সংস্করণ (ওয়ান ডে বা লাল বলের ক্রিকেট) থেকে বিপিএল খেলতে এসেছে বলে এমনটা হতে পারে। তবে এটা অজুহাত হিসেবে দেখানো যাবে না। ঢাকার উইকেটের কারণেও তাদের এমন হতে পারে। কিছু কিছু ব্যাটারকে দেখলে মনে হচ্ছে তাদের নিজেদের কিছু সমস্যার জন্য এমন হচ্ছে।’

এই তরুণদের ওপর ভরসা করে টি-টোয়েন্টি থেকে ছয় মাসের বিরতি নিয়েছেন তামিম। অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনারের প্রত্যাশা, আগামী ছয় মাসে তরুণেরা এত ভালো খেলবেন, যেন এই সংস্করণে জাতীয় দলে তাঁকে আর না ফিরতে হয়।

অথচ সেই তামিমই এবারের বিপিএলে গতকাল পর্যন্ত সেঞ্চুরি হাঁকানো একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটার। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও (৬ ম্যাচে ২৬২ রান)। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করছেন মাহমুদউল্লাহ-সাকিবও। ভালো করছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, রনি তালুকদারের মতো ব্যাটাররা। এটিকে অবশ্য দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক মনে করছেন ফাহিম, ‘জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে উন্নতি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির। ফেরার চিন্তা মাথায় রেখেই বাড়তি চেষ্টা করছে তারা।’

আরও একটি বিশ্বকাপ-ভাবনায় রেখে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ভালোভাবে প্রস্তুত হতে শুধু বিপিএল নয়, ঘরোয়া পর্যায়ে আরও বেশি সংক্ষিপ্ত সংস্করণে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরামর্শ ফাহিমের।

মেরাজুল কনক

আমি মেরাজুল ইসলাম, একজন বাংলাদেশী ব্লগার। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড অনেক কাজ করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন