চট্টগ্রামে পেছাল চট্টগ্রাম, এগোল ঢাকা-বরিশাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্ব শেষে ফুরফুরে মেজাজে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু করার কথা ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। হয়েছে তার ঠিক উল্টোটা। অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনায় বিতর্কের জন্ম দিয়ে মাঠের ক্রিকেটেও তারা ছিল ছন্দহীন। চার ম্যাচের তিনটিতে হেরে পয়েন্ট তালিকায় দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে চট্টগ্রাম।

এদিকে ঢাকা পর্বে সবচেয়ে টালমাটাল মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা চমক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম পর্বে। দুই ম্যাচের দুটিতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে উঠে এসেছে তিনে। দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ঢাকা পর্বে ভরাডুবির পর যে আশার কথা শুনিয়েছিলেন, চট্টগ্রাম পর্বে সেটিই তাঁরা করে দেখিয়েছেন। ঢাকা পর্ব শেষে তামিম জানিয়েছিলেন, কোয়ালিফাই করতে বাকি ম্যাচগুলোর বেশির ভাগই জিততে হবে তাঁদের। কাজটা কঠিন স্বীকার করে তামিম বলেছিলেন, কাজটা তাদের জন্য কঠিন, কারণ বাকি ছয় ম্যাচে বেশির ভাগই জিততে হবে। কোয়ালিফাই করতে হয়তো চারটি জিততে হবে। তামিম এ-ও বলেছিলেন, ‘কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।’

ঢাকা পর্বে দুই ফিফটি করেও দলের হারে সমালোচিত তামিম জবাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে। সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ৬৪ বলে ১১১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে জিতিয়েছেন দলকে, জবাব দিয়েছেন সমালোচনার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে জয়েও তামিমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ৩৫ বলে করেছিলেন ৪৬ রান। তবে এই ম্যাচে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ব্যাটে-বলে পারফর্ম করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৪১ বলে অপরাজিত ৭০ রানের সঙ্গে বল হাতে উইকেট না পেলেও ৩ ওভারে দিয়েছেন ১৭ রান। অধিনায়কের এমন আলো ছড়ানোর ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে ঢাকা জিতেছে ৫০ রানের ব্যবধানে। ব্যাটারদের সঙ্গে ঢাকার বোলাররাও এই দুই ম্যাচে নিজেদের কাজ ঠিকঠাকভাবে করেছেন। প্রথম ৪ ম্যাচে ৩ হারের বল তামিম বলেছিলেন একটা দল হয়ে খেলতে পারছে না তারা। তবে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে অবশ্য দল হয়ে খেলেই জিতেছে ঢাকা।

এই পর্বে মুদ্রার ওপিঠ দেখেছে চট্টগ্রাম। ৪ ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র এক ম্যাচে। মাঠের বাইরের বিতর্কে মাঠেও ছন্নছাড়া মিরাজ-আফিফ-সাব্বিররা। চট্টগ্রামের পেসার শরীফুল ইসলাম অবশ্য বলছেন মিরাজের ঘটনা দলে প্রভাব ফেলেনি। গতকাল ফরচুন বরিশালের কাছে হারের পর দলের এমন পারফরম্যান্সের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন শরীফুল। ২০ বছর বয়সী এই পেসারের সরল স্বীকারোক্তি, ‘চট্টগ্রামে এসে আমরা ভালো খেলতে পারিনি কারণ এখানে আমরা ভালো ক্রিকেটটা খেলতে পারিনি। ভালো খেলা এই কথা বলটা সহজ কিন্তু করা কঠিন। চেষ্টা করব এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর। আমাদের দলের পরিবেশ ভালো। উইকেটও ঠিক আছে। আসলে আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পারছি না আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।’

মিরাজকে নিয়ে শরীফুলে উত্তর, ‘দলে এটার কোনো প্রভাব পড়েনি। সবকিছুই ঠিক আছে। বাইরে থেকে যেটাই মনে হোক না কেন আমরা এখানে একটা পরিবারের মতোই আছি। ম্যাচে ফল নিজেদের দিকে না এলে অনেক কথায় হয়।’

চট্টগ্রাম পর্বে তাদের ভরাডুবি হলেও দাপট দেখিয়েছে ফরচুন বরিশাল। এই পর্বে সবচেয়ে বেশি সফল তারা। ৩ ম্যাচের ৩ টিতেই জিতেছে সাকিব আল হাসানের দল। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচের ৪ জয়ের সাকিবের বরিশাল এখন টেবিলের এক নম্বরে। দলের জয়ে ব্যাটে বলে অবদান রাখছেন সাকিব। শেষ দুটি ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচও তিনিই। টেবিলের দুই আছে কুমিল্লা, পাঁচে খুলনা টাইগার্স আর ছয়ে সিলেট সানরাইজার্স।

মেরাজুল কনক

আমি মেরাজুল ইসলাম, একজন বাংলাদেশী ব্লগার। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড অনেক কাজ করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন