টানা দুই জয়ে পয়েন্ট এর শীর্ষে চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে তারা হারিয়েছে ২৫ রানে। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ১৯০ রান তোলে চট্টগ্রাম। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি খুলনা। দ্বিতীয় ম্যাচে এটি প্রথম হার দলটির। 

চট্টগ্রামের দেওয়া ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খুলনার। দলীয় ১৮ রানে নাসুম আহমেদের বলে ৯ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। সুবিধা করতে পারেননি খুলনার প্রথম ম্যাচের ম্যাচসেরা রনি তালুকদার (৭। তবে খুলনার জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে আসে আন্দ্রে ফ্লেচারের রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে বেরিয়ে যাওয়া। খুলনার ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলে পেসার রেজাউর রহমান রাজার বাউন্সার আঘাত হানে ফ্লেচারের ঘাড় ও চোয়ালের মাঝামাঝি অরক্ষিত জায়গায়। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। দ্রুতই তাঁকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যায় মেডিকেল টিম। 

এক প্রান্তে মেহেদি হাসান চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে খুলনা। সেই ধারাবাহিকতায় পেসার রেজাউরের প্রথম শিকার হয়ে ফেরেন মুশফিকুর রহিম (১১)। দ্রুত রান তোলার তাড়নায় আউট হয়ে যান ফ্লেচারের ‘কনকাশন সাবস্টিটিউট’ হিসেবে নামা সিকান্দার রাজাও (২২), থিসারা পেরেরা (০)। একপ্রান্তে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেও হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া কিছুই করতে পারেননি ইয়াসির আলী রাব্বি। ২৬ বলে তাঁর ৪০ রানের ইনিংসটি তিন ছক্কা আর দুই চারে সাজানো ছিল। চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন নাসুম, মেহেদী, রেজাউর। 


এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম। ওপেনিংয়ে ১.৩ ওভার স্থায়ী জুটি থেকেই ২৯ রান তোলেন দুই ওপেনার উইল জ্যাক-কেনার লুইস। ২৩ রানই আসে সোহরাওয়ার্দী শুভ প্রথম ওভার থেকে। তবে দ্বিতীয় ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ১৭ রান করে আউট হয়ে যান জ্যাক। ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি লুইস (২৫)। 

দুই ওপেনারকে হারালেও পাওয়ার প্লেতে ৬৪ রান তোলে চট্টগ্রাম। দুরন্ত শুরু করা চট্টগ্রাম তৃতীয় উইকেট হারায় ৬৯ রানে। সাব্বির রহমানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন আফিফ হোসেন (১৫)। সাব্বির রহমানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়তে চেষ্টা করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের জুটি থেকে আসে ৪৮ রান। অধিনায়কের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বির (৩৩)। 

তবে চট্টগ্রামকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে আবারও এগিয়ে আসেন বেনি হাওয়েল। গত দুই ম্যাচের মতো আজও তাঁর ব্যাটের তাণ্ডবে দিশেহারা প্রতিপক্ষ বোলাররা। ২০ বলে চারটি চার আর এক ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। শেষ ওভারে হাওয়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে তাণ্ডব ত্বরান্বিত করেন নাঈম ইসলাম। শেষ বলে রানআউট হওয়ার আগে দুই ছক্কায় ১৫ রান করেন এই অলরাউন্ডার। খুলনার হয়ে ৩ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন কামরুল ইসলাম। 

মেরাজুল কনক

আমি মেরাজুল ইসলাম, একজন বাংলাদেশী ব্লগার। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড অনেক কাজ করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন